×

ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে আসছে—এমন পরিস্থিতিতে জাহাজগুলো কীভাবে ওই প্রণালী দিয়ে চলাচল করছে?

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ওপর হামলার আগে, হরমুজ প্রণালীতে তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল ইরান।

দীর্ঘদিন ধরেই হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চেষ্টা করে আসছে তেহরান। এ লক্ষ্যে জাহাজগুলোকে সরকার-অনুমোদিত নির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহার করার নির্দেশও দিয়ে আসছে তারা।

তবে ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের পর থেকে, ইরানের নির্ধারিত পথ এড়িয়ে অন্য রুট ব্যবহার করা জাহাজগুলোর ওপর অন্তত পাঁচটি হামলার অভিযোগ উঠেছে তেহরানের বিরুদ্ধে।

এসব বিকল্প নৌপথের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশকৃত ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়া রুট এবং হরমুজ প্রণালীর মাঝামাঝি অংশ দিয়ে পরিচালিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (IMO) নির্ধারিত নৌপথ।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান কেপলার (Kpler)-এর তথ্য অনুযায়ী, এসব অ-ইরানি রুট দিয়ে পণ্য, তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের চলাচল ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২৪ জুন সর্বোচ্চ ৩৮টিতে পৌঁছায়।

কিন্তু এরপরই ইরান দুটি জাহাজে হামলা চালায়। এর ফলে বিকল্প নৌপথগুলোতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

তবুও ইরানের হুমকি সত্ত্বেও এসব রুট পুরোপুরি পরিত্যক্ত হয়নি। ৩০ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩টি জাহাজ এসব নৌপথ ব্যবহার করেছে।

গতকাল তিনটি জাহাজে নতুন করে হামলার পর পরিস্থিতির কী প্রভাব পড়ে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

চার্ট যা বলছে

শিরোনাম: ১৭ জুন থেকে ৭ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজের সংখ্যা

চার্টে দুটি পৃথক রুটে প্রতিদিনের জাহাজ চলাচলের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

  • নীল বার: ইরানের নির্ধারিত নৌপথ
  • লাল বার: ওমান/আইএমও (IMO) নৌপথ

২৫ থেকে ২৭ জুনের মধ্যে সংঘটিত আগের জাহাজ হামলাগুলো ড্যাশযুক্ত উল্লম্ব রেখার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ইরানের নির্ধারিত রুটে পুরো সময়জুড়ে জাহাজ চলাচল তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ২২টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে।

অন্যদিকে, ওমান/আইএমও রুটে ২৩ জুনের আগে জাহাজ চলাচল ছিল খুবই সীমিত। পরে তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ২৪ জুন ৩৮টিতে পৌঁছে এবং জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত অধিকাংশ দিনে ৬ থেকে ২৪টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে।

চার্টের তথ্য ইঙ্গিত দেয়, হামলার পর নিরাপত্তার বিবেচনায় অনেক জাহাজ ইরানের নির্ধারিত রুট ছেড়ে ওমান/আইএমও নৌপথে চলাচল শুরু করে।


পূর্ণমাত্রার সংঘাত ফিরে এলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে: জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাত পুনরায় শুরু হলে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। এতে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মানুষই নয়, আন্তর্জাতিক শান্তি, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতিও গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তিনি সব পক্ষকে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।


সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MOU) যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অবৈধ হামলা এবং সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইরানি তেল বিক্রির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত—দুটিই ওই সমঝোতার পরিপন্থী।

তেহরান সতর্ক করে বলেছে, এই উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে যে কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতির দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।


‘অশালীনতার জবাব আমরা অশালীনতায় নয়, কাজে দিই’ — ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লিখেছেন—

“ইরানের সভ্য ও সাহসী জনগণকে অবমাননাকর ভাষায় সম্বোধন করলেই তাদের মর্যাদা বা মহানতা কমে যায় না।

ইরানিরা তাদের সভ্যতা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং দৃঢ় নৈতিক মূল্যবোধের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

আমরা অশালীনতার জবাব অশালীনতায় দিই না; আমরা তার জবাব দিই সাহসিকতা ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *